দেশের বাজারে ২০-৩০% কম দামে গাড়ি আনছে র‍্যানকন

দেশে বর্তমানে নতুন কোনো সিবিইউ (সম্পূর্ণ রূপে বিদেশে নির্মিত) গাড়ি কিনতে গেলে সরকারকে ১২৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

দেশে বর্তমানে নতুন কোনো সিবিইউ (সম্পূর্ণ রূপে বিদেশে নির্মিত) গাড়ি কিনতে গেলে সরকারকে ১২৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এতে একটি গাড়ির দাম বেড়ে মূল দরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে এগিয়ে এসেছে র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সিবিইউর চেয়ে অন্তত ২০-৩০ শতাংশ কম দামে গাড়ি বিক্রি করতে পারবে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছে র‌্যানকন।

গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার বড় ভবানীপুরে র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানা পরিদর্শন করেন একদল সাংবাদিক। এ সময় গাড়ি সংযোজনের নানা ধাপ ও পর্যায় ঘুরে দেখেন তারা। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন র‍্যানকনের কর্মকর্তারা।

প্রায় ৫৭ একর ভূমির ওপর নির্মিত র‍্যানকনের এ শিল্প পার্ক। এখানে আগে থেকেই একটি কোম্পানির মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন হতো। এ পার্কে নতুন সংযোজন অটোমোবাইল বিভাগ। ২০১৭ সালে নির্মিত কারখানাটি এরই মধ্যে বাজারে গাড়ি বিক্রির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে। আগামী জুন নাগাদ এখানে উৎপাদিত নতুন গাড়ি বাজারজাত করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যানকন।

বর্তমানে এ কারখানায় চারটি গাড়ি সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি। একটি জাপানের মিৎসুবিশি এক্সপ্যান্ডার, অপরটি মালয়েশিয়াভিত্তিক প্রোটন এক্স ৭০। উৎপাদনের পথে রয়েছে জার্মানির বাণিজ্যিক বাস মার্সিডিজ ওএফ ১৬২৩ ও চীনের পিকআপ ট্রাক জ্যাক ডি ৮৭০১। এছাড়া এ কারখানায় প্রোটন এক্স ৯০, জিএসি টি ৮, সিএসি টি ৯ ও এমজিসহ বেশকিছু গাড়ি প্রস্তুতের পরিকল্পনা রয়েছে র‌্যানকনের।

মূল কাঠামো বা চেসিস আমদানির পর প্রায় তিন হাজার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতার এ কারখানায় চারটি ধাপে একটি গাড়ি প্রস্তুত করা হয়। এগুলো হলো পেইন্ট শপ, অ্যাসেম্বলি শপ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল শপ ও ম্যাটেরিয়াল ওয়্যারহাউজ। গাড়ি প্রস্তুতের পর দেশের সম্ভাব্য প্রায় ১৫ ধরনের সড়কের ওপর চালিয়ে এর সক্ষমতা যাচাই করা হয়। শিল্পপার্কের অভ্যন্তরেই নির্মাণ করা হয়েছে এসব কৃত্রিম সড়ক।

র‌্যানকন অটো ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘দেশে একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের টেস্টট্র্যাক রয়েছে এ কারখানায়। এর মাধ্যমে গাড়ির গতি, ব্রেক, হ্যান্ডলিং, স্থিতিশীলতা, সাসপেনশন ও অন্যান্য কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। বিদেশী কোম্পানিগুলো এ কারখানার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছে, এরপরই তাদেরকে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া গাড়ির মান যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর উৎপাদন সনদ দেয়া হয়েছে। এখানে প্রস্তুতকৃত গাড়িগুলো তারা নিয়মিত বিরতিতে নিরীক্ষা করবে।’

তবে গাড়ির মূল্য এখনই নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যানকনের এ নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘দাম নির্ধারণ নিয়ে আমাদের ফাইন্যান্স টিম কাজ করছে। আগামী মাসের শুরুতে অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে মূল্য ঘোষণা করা হবে। তবে আমরা সিবিইউ গাড়ির চেয়ে অন্তত ২০-৩০ শতাংশ কম দামে এসব গাড়ি বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

আরও